এ বাড়ীতে অপুর নিজস্ব একটা বৃন্দাবন আছে।
অবসরের অনেকটা সময় অপু সেখানে কাটায়। বাড়ীর পেছনে ছোট একটা পুকুর। চারপাশে নানা রকমের গাছ। আম জাম নারকেল তেঁতুল আরো কত কি। স্নিগ্ধ শীতল ছায়া সারাক্ষণ।
স্কুল থেকে ফিরেই সময়টা পার করে দেয় বাগানে। বন্ধের দিনতো পাটি বালিশ নিয়ে একটা দিনের জন্য ওখানেই সংসার পাতে। তাতে কেউ কিছু বলেনা। বড়রা মুচকি হাসে। ভাবে এই ছেলে বুঝি বড় হয়ে সন্ন্যাসী হবে। এই বয়সে এত কি ভাবে। সারাক্ষণ উদাস হয়ে পুকুর পাড়ে ঘুরে বেড়ায়।
অপুর একটা গোপন ইচ্ছাও আছে। কাউকে জানতে দেয়না। পাছে লজ্জা পেতে হয়।
অপু যখন এই বৃন্দাবনে ঘুরে বেড়ায়। সাথে থাকে কিছু কাগজ আর কলম। সযত্নে লুকিয়ে রাখে হাফ প্যান্টের পকেটে। অপুর হিসাব করতে ইচ্ছা করে এবার গাছে কতটা আম ধরল। ঠিক কোনদিন থেকে চালতা গাছে ফুল ফুটলো। কোন দিন থেকে সেই ফুল চালতার বোল হয়ে দেখা দেবে। পেয়ারা গাছে পেয়ারাগুলোর আয়ু কতদিন, যতক্ষণ না পেয়ারাগুলো নিজে থেকে ঝরে না পরে। নানান ফলের কুড়িগুলো প্রতিদিন কতটুকু করে বড় হচ্ছে। সব যেন কাগজে লিখে রাখতে পারলে একটা কাজের মত কাজ হয়। কেউ তো আর এসব নিয়ে সচরাচর মাথা ঘামায় না। অপু একা একা ভাবে আর সংগোপনে লিখে রাখতে চেষ্টা করে। বন্ধুদের মধ্যেও কাউকে জানতে দেয় না।
এছাড়াও অপুর বৃন্দাবনে আসে নানা জাতের পাখি। অতিথি পাখিরাও মাঝে মধ্যে এসে উঁকি দিয়ে যায়। অপু তাদের দেখে মুগ্ধ হয়। অপুতো সব পাখির নাম জানেনা। তাদের সংখ্যাও মনে রাখতে পারেনা।
অপুর ইচ্ছা কোন দিন কতটা পাখি তার বৃন্দাবনে আসলো তার একটা হিসাব রাখতে পারলে ভালো হয়।
অপুর সোজা হিসাব। সে যদি এক ঘণ্টা বৃন্দাবনে থাকে এবং ঐ সময়ে যদি বিশটা পাখি আসে তবে দিনের বারো ঘণ্টায় পাখির সংখ্যা দাঁড়াবে বিশ গুন বারো সমান সমান দুইশ চল্লিশটা।
আজ বন্ধের দিন।
জ্যেষ্ঠের দুপুর। অপু শুয়ে আছে বৃন্দাবনে। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। বুঝি কালবৈশাখীর লক্ষণ। অপুর কান দুইটা সজাগ। আম পরলেই ছুটে যায়। কুড়িয়ে এনে বালিশের পাশে রাখে। বাতাসে গাছের ডালপালাগুলো দোল দেয়। সেই সাথে অপুর মনটাও।
অপুর এভাবে থাকতে ভালো লাগে। ইচ্ছে হয় সারাজীবনটা এমনি করে কাটিয়ে দিতে। কি লাভ চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী থেকে। এইতো বেশ আছি। বাবার বকুনি নেই, মায়ের সীমাহীন স্নেহ নেই। চৈত্র সংক্রান্তির নাড়ু কিংবা চিড়া দধির সেই তৃপ্তিকর খাবারে অপুর অরুচি। একদম খেতে মন চাই না।
মায়ের কথা মনে হয়। না খাইয়ে কিছুতেই ছাড়বে না। বলবে-
- এই নাড়ুটি আমার সামনে খা। আমি নিজ হাতে বানিয়েছি।
- অপু আপত্তি করে। খাবে না।
- মায়ের কঠোর আদেশ। তোকে খেতে হবে। ইচ্ছা না থাকলে কি। এই একটা মাত্র নাড়ু। খেয়ে নে বাবা কিচ্ছু হবে না।
- অপু বিরক্ত হয়ে বলে-উঃ মা, তুমি বড্ড বেশী বাড়াবাড়ি কর। বললাম ক্ষিদে নেই। কেবল খাও আর খাও। বলি শুধু খেলেই কি সব। এইতো নিয়মিত চা পানি ভাত সবই তো খাচ্ছি তোমার সামনে। আর একটা মাত্র নাড়ু খাওয়ার জন্য তোমার এত সাধাসাধি। নাড়ুটা খেলে বুঝি তোমার তৃপ্তি।
- সে তুই বুঝবি না, মা হলে বুঝতিস।
আসলে পৃথিবীতে সব মায়েদের বুঝি একই রূপ। সন্তানের জন্য প্রাণের এত আকুলতা আর কোথায়?
অপুর মনে পড়ে মা একবার চুলার আগুনে রাঙ্গা আলু পুড়েছিল। স্কুলে যাওয়ার সময় অপুকে বলল-আলুটা খেয়ে নে বাবা। অপু খায়নি। বলল-এই মাত্র ভাত খেয়েছি। আলু খাবোনা।
- তবে পকেটে করে নিয়ে যা। পথে খাবি।
- অপুর স্কুল বেশী দূরে নয়। দুপুর ছুটিতে বাড়ীতে এসে ভাত খেয়ে যায়। তাই আলুটা ইচ্ছা করে নিল না।
অপু ক্লাসে ব্যাগ খুলে দেখে পোড়া আলু। মায়ের জন্য বড় মায়া হয়। অপু ভাবে পৃথিবীতে যাদের মা নেই তারা বুঝি এসব কিছু থেকে বঞ্চিত।
অপুর গর্ব হয়। এই বয়সে অদ্ভুত সব ভাবনা গুলো ভেবে ভেবে অপুর সময় কাটে। তার বয়েসী অন্য কোন ছেলেকে অপু এসব ভাবতে দেখেনি।
অপু একা। নিঃসঙ্গ শুয়ে আছে বৃন্দাবনে।
পাশে বলাইদের তাল গাছ। কচি তালের ডাব। দারুণ লোভ হয়। খেতে পারলে মন্দ হয় না। কিন্তু অপু যে গাছে চড়তে পারে না। একবার ভেবে নেয়, সানুকে বললে কেমন হয়।
সানু অপুর বন্ধু। লিকলিকে কাল চেহারা। কাঠবিড়ালির মত গাছে গাছে দৌড়াতে পারে। এই জ্যেষ্ঠীর দুপুরে সানুকে ঘরে পাওয়া মুশকিল। পাড়ার যত আম গাছে তার বিচরণ। একমাত্র সানুই পারে কচি তাল খাওয়াতে। গাছের ডালে ডালে তার লিকলিকে শরীরটা বাতাসের তালে তালে দোলে। একটুও ভয় নেয়। একবার যদি পরেতো হাড় গুড়ো হয়ে যাবে।
অপু ভাবল সানুর সাথে পূর্বের ঝগড়াটা ভুলে গিয়ে একবার যদি ভাব করা যায় তবে তাল খাওয়া কোন ব্যাপার না। কিন্তু সানুকে ব্যাপারটা কিভাবে বলবে।
এইতো কিছুদিন আগে একটা বড় ধরনের ঝগড়া হয়ে গেলো। বেদম ভাবে মারল অপু। অপু নিজেও কম লাঞ্ছিত হয়নি। এত সহজে কি ওসব ভোলা যায়।
সেদিন ছিল শুক্রবার। স্কুল বন্ধ। অপু বৃন্দাবনে শুয়েছিল প্রতিদিনের মত। মাথার পাশে ছোট্ট হিসাবের খাতাটি। কাঠবিড়ালিগুলো ছুটছে এডাল থেকে ওডালে। অপু হিসাব করল এপর্যন্ত কমপক্ষে পনেরটি আম এই দুষ্ট কাঠবিড়ালিটি নষ্ট করেছে। কাঠবিড়ালির অত্যাচার বন্ধ করার জন্য একটা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অনেক কিছুই ভাবছে অপু। কি ভাবে রোধ করা যায়।
কখন যে তন্দ্রা এলো খেয়াল নেই। কুড়িয়ে পাওয়া কয়েকটা আমও সযত্নে রেখেছিল পাটির নীচে।
অপুর পাশে ললিতা আম গাছটা। সবচেয়ে বেশী আম ধরে। অপুর আলাদা একটা মায়াও আছে গাছটার প্রতি। ছোট ছোট লাল টুকটুকে আমগুলো দুর থেকে মাকাল ফলের মতোই মনে হয়।
সানু কোন ফাঁকে সেই গাছে চড়ে বসেছে। মগডালে বসে দুলছিল ভীষণ ভাবে। সে কি কৌশল। জোড়ে বাতাস আসলেই আঁকড়ে ধরে ডালগুলো। বোঝার উপায় নেই যে গাছে মানুষ আছে।
ললিতা আমটা খুব মিষ্টি। পোকা নেই। খোসাটা ছাড়িয়ে গোটা আমটা একসাথে মুখে পুরে দেওয়া যায়। সানু ইচ্ছামত কয়েকটা আম খেয়ে নিলো। কোমরের গামছায় বেঁধে নিলো বেশ কিছু আম। তারপর আমের বোটাগুলো একসাথে ছুড়ে মারল অপুর বিছানায়।
অপু খেয়াল করেনি। ভাবল বুঝি আম পরেছে। পরক্ষনে ভুল ভাঙ্গল। তাড়াতাড়ি নিজের কুড়ানো আমগুলো একবার দেখে নিল। তাও ঠিক আছে। অপু গাছের দিকে তাকায়। লাল টকটকে আমগুলো ঝুলছে। সানুকে দেখতে পায় না। সানুর শরীরটা মিশে আছে পাতার সংগে। ক্ষণিক পর সানু খিল খিল করে হেসে উঠল। অপুর রাগ হলো ভীষণ। আমাদের গাছে উঠে আমাকে অপমান। অপু ছুটে যায় ললিতা গাছের গোঁড়ায়।
- তাড়াতাড়ি নেমে আয়। আজ তোকে দেখাচ্ছি মজা। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। চোর.. আমার গাছের আম চুরি করে আমাকে অপমান, তোর এত সাহস। অপু সানুকে রাগের মাথায় অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে নিজের ক্ষোভ মিটাতে চাইল। অপু তো গাছে উঠতে জানেনা।
মিটবে কি। অপুর রাগ আরও বেড়ে গেল, যখন সানু মগডাল থেকে বলল-
- তুই আমার কি করবিরে এ্যাঁ, আম খেয়েছি তো কি হয়েছে ? নে তুই একটা খা, নে ধর বলে সানু একটা আম অপুর দিকে ছুড়ে মারল।
- অপু আমটা কুড়িয়ে নিয়ে সানুকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। লক্ষ্য বিফল হলো। সানু হি হি করে হেসে বলে পারবি না, পারবি না, সাহস থাকলে গাছে উঠে আয়।
- নেমে আয় না একবার। তারপর দেখাচ্ছি মজা।
পাশ থেকে একটা গাছের কঞ্চি কুড়িয়ে গাছের নীচে দাড়িয়ে থাকে অপু। রাগে অপমানে গা জ্বলছে।
সানু উপর থেকে ব্যাঙ্গ করে আর বলে-
- ইস কি আমার বাহাদুররে, সাহস থাকে তো উঠে আয় তারপর দেখাবো মজা।
রাগে দুঃখে অপমানে অপু গাছে উঠতে চেষ্টা করে। কিছুদূর উঠতেই সানু চিৎকার করে বলে-
- এই অপু, পরে গেলে কিন্তু আমার দোষ দিতে পারবি না বলে দিচ্ছি। আর একটু উঠলে কিন্তু আমি হাগু করে দেবো। মাথায় গু পরার আগে ভালোই ভালোই নেমে যা।
- অপু গাছে উঠতে পারে না। তবুও শোধ নেওয়ার জন্য প্রাণ পণে উঠতে চেষ্টা করে। এক হাত উঠে তো তিন হাত নেমে আসে। গাছের বাকলে ঘষা লেগে বুকের চামড়া ছিঁড়ে যাচ্ছে। সেদিকে খেয়াল নেই।
- অপুকে উঠতে দেখে সানু একটা ডালে বসল তারপর ঢিলা হাফ প্যান্ট খুলে নিশানা ঠিক করে নিল। ঠিকঠাক মত ছাড়লে ঠিক কোথায় গিয়ে পরবে।
- অপু কিছুটা উঠে এসেছে। আর বেশিদূর নেই। এক্ষুনি বাঁধবে হয়তো লঙ্কা কাণ্ড।
- সানু নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। ঠিক জায়গায় বসে শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করে নিল। অপুর মাথায় শরীরে কিছু একটা পরছে বুঝতে পেরে হাত দিয়ে দেখল। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। নিজের খেয়াল হারিয়ে মাটিতে লাফিয়ে পড়ল অপু। ভাগ্যিস হাত পা ভাঙেনি। অপু হাউ মাউ করে কেঁদে উঠল।
- ততক্ষণে সানু চম্পট। কে আর নাগাল পায়।
অপুর মা কান্না শুনে ছুটে এসেছে। হাল অবস্থা দেখে তার চক্ষু কপালে উঠল। কিছুই বুঝতে পারছে না। কেবল অপু কাঁদতে কাঁদতে বলল-সানু-----পায়খানা-----করেছে।
অপুর মা অনেক্ষণ গালি দিল। চেঁচিয়ে বলল-
- সানুর মাকে বলব। এমন অসভ্য ছেলে কিভাবে জন্ম দেয়? চোরের ছেলে চোর হয়েছে, বলি ভালো হবে কি করে? সারা জীবনতো পরের বাদীঁগিরি করে কাটলো, হে জগত তারিণী-এমন ছেলের মরণ হয় না কেন। ভগবান এর বিচার করবে। আমার ছেলেটার কি অবস্থা করেছে।
অপুকে ঐ অবস্থায় সাথে নিয়ে মা নালিশ করল সানুর মায়ের কাছে। সানু তখনও ঘরে ফেরেনি। ঐদিন সানুর মায়ের হাতে বেশ করে উত্তম মধ্যম খেয়েছে সানু। তাতে সানুর দুরন্তপনা, উচ্ছৃঙ্খলতা একটুও কমেনি।
পরদিন স্কুলে দুজনের দেখা। অপু কোন কথা বলেনি। সুবোধ ছেলের মত ফিরে আসছিল। সানু গর্বের হাসি হাসে। নানা রকম অঙ্গ ভঙ্গি করে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ প্রকাশ করছে।
অপু নিজের মনে মনে ঠিক করল-সানুকে যেভাবে হোক আজই শায়েস্তা করতে হবে। বন্ধুদের কয়েকজন জিজ্ঞাসা করল,
- কিরে সানু নাকি তোর শরীরে হাগু সেরেছে। তা কেমন রে, খুব সুগন্ধি বুঝি।
অপুর রাগ বেড়ে যায়। এক্ষুনি যেন সানুকে পেলে চিবিয়ে খাবে। অপু পাল্টা প্রশ্ন করেছে-
- তোদের কে বলেছে।
- কে আবার বলবে। সানুই তো বলল। ইস্ কি বেয়াদপ ছেলেরে বাবা, দেনা একবার মেরে, হাড্ডি গুড়ো করে বাপের নাম ভুলিয়ে দে।
কথাগুলো যেন পরোক্ষভাবে অপুকেই অপমান করার জন্য। অপু আর কোন কথা না বলে বাড়ী ফিরে আসে। ভাত খেতে মন চায় না। মনে মনে ভাবতে থাকে সানুর আজকের কর্মসূচী কোথায়। সানু নিশ্চয় আজ আর এদিকে আসবে না। ভয় বলেতো একটা কথা আছে।
ঘোষ বাবুদের পেছনে থোকা থোকা আম। ওখানে ছাড়া সানু আর কোথাও যাবে না। অপু ঘোষ বাবুদের পেছনে গিয়ে দাড়ায়। হাতে হাত তিনেক লম্বা একটা বাঁশের লাঠি।
অপু অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকে আড়ালে। দুর থেকে দেখছে। সানু আসছে। কোমরে একটা লাল গামছা বেঁধেছে। সানুর আগমন টের পেয়ে অপু নিজেকে আরও আড়াল করতে চেষ্টা করে। সানুর নিশানা ঘোষ বাবুদের লিচু আম। লাল টুকটুকে লিচুর মত আমগুলো খেতে বেশ মজা।
সানু যে-ই গাছে উঠতে যাবে অমনি অপু দৌড়ে এসে বসিয়ে দিল কয়েক ঘা। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সানু। আর যাই কোথা। অপু হাউ মাউ করে কেঁদে উঠে।
অপু পালিয়ে যায়। আর বলে যায়-এবার বোঝ মজা। আরেকবার এমন করেছিস তো পিঠের চামড়া থাকবে না। মনে রাখিস।
তারপর থেকে অনেকদিন দুজনের মধ্যে আর কোন কথাবার্তা নেয়।
এত কিছুর পর আজ কি করে বলবে সানুকে তাল পারার জন্য। অপু ভাবছে একটা বই চাইতে গেলে কেমন হয়। যদি না দেয়, যদি আমাকে উল্টা মেরে বসে? শালার তো বিশ্বাস নেই। কিন্তু তাল খেতে গেলে শানু ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। যেভাবে হোক শানুকে বশে আনতে হবে। তবুও তো বন্ধু। কদিন আর চুপ করে থাকা যায়।
বই ধার চাইতেই সানু বলল-
- তুই কি আবার মারতে এসেছিস?
- আরে না, না।
- যেভাবে মেরেছিস তাতে তো বই দেওয়া যায় না। এখনও শরীরে ব্যাথা আছে।
- তুইও কি কম করেছিস। এখনও গন্ধ লেগে আছে।
- তাই বুঝি।
দুজনেই হাসলো। অপু প্রস্তাব করল-
- চল এক কাজ করি।
- কি কাজ? জিজ্ঞাসা করল সানু।
- বলাইদের গাছ থেকে কচি তাল পেরে খেলে কেমন হয়।
- ওরে বাবা, বলাইয়ের বাবা দেখলে আর রক্ষা থাকবে না। তোর মনে নেই সেদিনের কথা।
- আছে তো। তাছাড়া বলাইও আমাদের সাথে থাকবে।
- তবে তো ভয় নেই। তাহলে চল কালই অপারেশন চালিয়ে দিই। সানু বেশ গর্বের সহিত বলল কথাটা। এ জাতীয় অপারেশন সানু ছাড়া হয় না।
অপু উঠে দাড়িয়ে বলল-
- তবে আজ যায়।
আশ্চর্য হয়ে সানু জিজ্ঞাসা করল-
- সে কি? বই নিবি না?
- না।
- তুই না বই নিতে আসলি?
- না। তোর সাথে ভাব করতে এলাম।
হো হো করে কিছু না বুঝেই দুজনে হেসে উঠল। তাতে বিন্দুমাত্র ক্রোধের চিহ্ন নেই। যেন দুজনের মধ্যে অনন্তকালের বন্ধন।
০৭ এপ্রিল - ২০১১
গল্প/কবিতা:
১১৩ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
প্রতি মাসেই পুরস্কার
বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।
লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন
-
প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
-
দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার
প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
-
তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।
আগামী সংখ্যার বিষয়
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ নভেম্বর,২০২৪